যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় কিউবা আক্রমণ করতে পারে
যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় কিউবা আক্রমণ করতে পারে। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মন্তব্যে এমনই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সংবাদমাধ্যমটি আজ মঙ্গলবার (১২ মে) একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিউবা সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন। এবং দেশটি আক্রমণের যে হুমকি তিনি দিচ্ছেন, তা বাস্তবে পরিণত হতে পারে।
১৯৬২ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং বর্তমান রাশিয়া কিউবায় পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে জানতে পারে। এরপর তারা কিউবার ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে। যেহেতু কিউবা তাদের ভূখণ্ডের কাছাকাছি ছিল, তাই যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের এই মোতায়েনকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখেছিল।
ট্রাম্প যদি এখন দেশটি আক্রমণ করেন, তবে এটি হবে ১৯৬২ সালের পর দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘাত। গত সপ্তাহে সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র গত ফেব্রুয়ারি থেকে কিউবার ওপর তাদের নজরদারি ফ্লাইট বাড়িয়েছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে দেশটির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর জেরে বলেছেন যে, এটি গণহত্যার উদ্দেশ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ শাস্তি।
মার্কিন জ্বালানি নিষেধাজ্ঞার কারণে গত কয়েক মাসে কিউবার পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন সেনাদের দ্বারা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর কিউবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। কারণ দেশটি তার বেশিরভাগ তেল ভেনেজুয়েলা থেকে পায়। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা বলেছেন, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে তাকে জানিয়েছেন যে কিউবায় হামলা করার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।
কিন্তু গত শুক্রবার ট্রাম্প বলেন যে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফেরা একটি যুদ্ধজাহাজ কিউবার কাছে মোতায়েন করা হতে পারে। ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বলেছেন যে, যদি যুদ্ধজাহাজটি মোতায়েন করে কিউবায় নিয়ে যাওয়া হয়, তবে দেশটি আত্মসমর্পণ করবে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের আগেও কিউবায় হামলার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দিকে মনোযোগ দেয়, তখন হামলাটি বন্ধ হয়ে যায়।
সূত্র: অ্যাক্সিওস

