জাতীয়

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সবাইকে সংযমী হতে বললেন অর্থমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই আহ্বান জানান।
যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আইএমএফ কী পরামর্শ দিয়েছে? অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানতে চাইলে, যুদ্ধের প্রেক্ষাপট রয়েছে, ব্যাংকিং খাতে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, পুঁজিবাজারে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, আমাদের কর-জিডিপি অনুপাত অত্যন্ত নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। এটি উন্নত করতে আমরা কী করতে পারি, এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
সাংবাদিকদের আরেকটি প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার ক্ষমতায় এসেছে মাত্র এক মাস। এই এক মাসে রমজান মাস ছিল এবং সেই মাসেই যুদ্ধ শুরু হয়। কিন্তু জ্বালানি সংকট সত্ত্বেও পরিবহনে কোনো সমস্যা হয়নি। ঈদে সবাই বাড়ি ফিরতে পেরেছেন, ভাড়া বাড়েনি এবং পণ্যের দাম স্থিতিশীল ছিল।
তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর ঈদের আগে পোশাক খাতে যে ধরনের সমস্যা হয়, এবার তেমন কোনো অস্থিতিশীলতা ছিল না। কারণ, এগুলো আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ফল। আমরা আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে পুরো রমজান মাস জুড়ে পণ্যের দাম স্থিতিশীল ছিল। জ্বালানি তেল প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, বড় ধরনের তেল সংকট সত্ত্বেও তেলের অভাবে কোনো পরিবহন বন্ধ হয়নি এবং পোশাক শ্রমিকদের বেতন সময়মতো পরিশোধ করা হয়েছে। কোনো অস্থিতিশীলতা ছিল না।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত অর্থনীতি খুব খারাপ অবস্থায় ছিল। তা কাটিয়ে ওঠার জন্য যে কর্মসূচিগুলো রয়েছে এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লিখিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে এমন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আমাদের অনেক সংস্কার প্রয়োজন, নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ দরকার। ব্যাংকিং খাত খুব খারাপ অবস্থায় রয়েছে, শেয়ার বাজারও দুর্বল এবং কর-জিডিপি অনুপাতও কঠিন পরিস্থিতিতে রয়েছে। এগুলো কাটিয়ে উঠতে আমাদের ইশতেহারে উল্লিখিত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি এবং বাকিগুলোও শীঘ্রই নেওয়া হবে।
দেশে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক সমস্যার কারণে অনেক প্রকল্প থমকে গেছে। পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও অনেক প্রকল্প থমকে গিয়েছিল। এগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা প্রয়োজন এবং এর জন্য অর্থনীতিকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সংস্কার আবশ্যক।
আইএমএফ ঋণ প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, বিষয়টি চলমান এবং আলোচনা চলছে। আইএমএফ-এর শর্তগুলোর মধ্যে কোনগুলো বাস্তবায়ন করা যায় এবং কোনগুলো ধাপে ধাপে করা প্রয়োজন, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আইএমএফ ঋণ মওকুফের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী জুলাই মাসের মূল্যায়নে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।