বগুড়ার নন্দীগ্রামে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষে ৬ জন আহত
নন্দীগ্রামে ধানের শীষের মিছিল থেকে দাড়ি মার্কার কর্মী জুলাই ফাইটারকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বগুড়া-৪ আসনে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৬ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। গতকাল সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে নন্দীগ্রাম উপজেলার থলতমজগ্রাম ইউনিয়নের পারশুন গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি, বগুড়া-৪ আসনে জামায়াত-ইসলামির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে, জুলাই ফাইটার আব্দুল্লাহেল গালিব (২২) ভুস্কুর গ্রামের রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় ধানের শীষের মিছিল থেকে গালিবকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ কারণে জামায়াত কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। এই ঘটনার পর পরশুন গ্রামের বিএনপি কর্মীরা জামায়াত কর্মী ফারুক ও বেল্লালকে তুলে নিয়ে ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মাসুদ রানার বাড়িতে আটক করে এবং মারধর করে। এই খবর পেয়ে জামায়াত নেতা-কর্মীরা দলে দলে মাসুদ রানার বাড়িতে যান। আটক দুই কর্মীকে উদ্ধার করতে গিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। ঘটনায় আহত ৪-৫ জনের মধ্যে বিএনপি নেতা মাসুদ রানা, জামায়াত কর্মী ফারুক, বেল্লাল ও আমিনুল রয়েছেন। আহতদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে, বিএনপি প্রার্থী মোশাররফ হোসেন দাবি করেছেন যে, ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের সময় বিএনপি কর্মীরা পারশুন গ্রামের দুই জামায়াত সদস্যকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ আসার পর জামায়াত নেতা-কর্মীরা তাদের সামনে বিএনপি নেতা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা চালায়, বাড়ি ভাঙচুর করে, মাসুদ রানাকে মারধর করে, গুরুতর আহত করে এবং তাদের কর্মীকে অপহরণ করে।
তিনি বলেন, ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “পুলিশ আসার আগেই মারামারি শুরু হয়ে যায়। তবে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের অভিযোগের বিষয়ে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।” ওসি জানান, গতকাল রাতের মারামারির ঘটনায় উভয় পক্ষই অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

