আ.লীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের ওপর হামলা, ৪ জন আহত
গাইবান্ধায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক এবং কাটাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জোবায়ের হাসান শফিক মাহমুদ গোলাপকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশের উপর হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য আহত হন।
একই সময়ে, হামলাকারীরা দুটি পুলিশের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। তবে পুলিশ এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। গতকাল রবিবার (২৫ জানুয়ারী) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কাটাবাড়ি ইউনিয়নের বাগদা বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন গোবিন্দগঞ্জ থানার এসআই সেলিম রেজা, এসআই মীর কায়েস, এসআই মমিনুল এবং কনস্টেবল হোসেন। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
জোবায়ের হাসান শফিক মাহমুদ গোলাপ ১৪ বছর আগে জামায়াত অফিস ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার অভিযোগে বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলার আসামি। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক এবং কাটাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তার বাবার নাম মৃত জুলফিকার মাহমুদ খসরু।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাতে পুলিশ গোলাপের বাড়িতে তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পুলিশ সদস্যদের বাড়ির ভেতরে আটকে রেখে মারধর করে এবং পুলিশের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এতে চার পুলিশ সদস্য আহত হন। খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) এবিএম রশিদুল বারীর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে। সেনাবাহিনীও ওই সময় এলাকায় টহল দেয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক আমাদেরকে বলেন, হামলায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং পুলিশের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলাকারীরা পালিয়ে গেছে। চেয়ারম্যান গোলাপ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে জামায়াত অফিসে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগে জোবাইর হাসান শফিক মাহমুদ গোলাপসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার ১১ বছর পর, ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা নুরুন্নবী প্রধানের ছেলে তাহারাত তানভীর প্রধান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

