নন-লাইফ বীমা খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ‘কমিশন মহামারী’ থেকে বেরিয়ে আসতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
পিপলস্ ইন্স্যুরেন্সের বার্ষিক ব্যবসা সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেছেন, পিপলস্ ইন্স্যুরেন্স কেবল একটি বীমা প্রতিষ্ঠান নয়; কমিশন-নির্ভর অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এটি দেশের বীমা শিল্পে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এ সময় কর্মকর্তারা নন-লাইফ বীমা খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ‘কমিশন মহামারী’ থেকে বেরিয়ে আসতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজধানীর বারিধারায় ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (ইউআইটিএস)-এর রত্নগর্ভা তাহমিনা রহমান মাল্টিপারপাস হলে গতকাল শনিবার এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

গতকাল ঢাকায় ইউআইটিএস ক্যাম্পাসে পিপলস্ ইন্স্যুরেন্সের বার্ষিক ব্যবসা সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তারা চেয়ারম্যান, সকল পরিচালক এবং ঊর্ধ্বতন নির্বাহীরা।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, এজেন্ট কমিশনের লাগামহীন প্রবণতা নন-লাইফ বীমা শিল্পকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এ প্রেক্ষাপটে ব্যক্তি এজেন্ট লাইসেন্স স্থগিত করার বিষয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)-এর সিদ্ধান্তকে একটি যুগান্তকারী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বীমা গ্রাহক ও সম্ভাব্য ক্লায়েন্টদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করাই ব্যবসায়িক সমৃদ্ধি ও টেকসই মুনাফার মূল চাবিকাঠি। গ্রাহক সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমেই একটি প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও ব্যবসা বিস্তৃত হয়। তিনি ব্যাংকাস্যুরেন্স ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সংগৃহীত ব্যবসায় প্রিমিয়াম আদায় ও পলিসি প্রদান-উভয় ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
পরিচালক মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, ব্যক্তি এজেন্ট লাইসেন্স স্থগিত সংক্রান্ত আইডিআরএর সার্কুলার পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে বীমা শিল্পের বহু জটিল সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বীমা গ্রাহক সুরক্ষা আরও জোরদার হবে এবং প্রতিটি বীমা কোম্পানি স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পাবে। এ সময় তিনি নতুন নতুন বীমা পণ্য উদ্ভাবন এবং বীমাগ্রহীতার পরিসর বাড়ানোর মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের সন্তুষ্টি বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম. আজিজুল হোসেন সম্মেলনের আলোচ্যসূচি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের মূল্যায়ন এবং ২০২৬ সালের জন্য কোম্পানির ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা ও কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি শাখা অফিস ও ব্যবসা উন্নয়ন কর্মকর্তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ও অর্জনের চিত্র তুলে ধরেন এবং আইডিআরএ প্রদত্ত নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করে নিয়ম-নীতির মধ্যে থেকে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।
সম্মেলনে শাখা অফিস থেকে আগত কর্মকর্তাদের মধ্যে বক্তব্য দেন- লোকাল অফিসের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, এএমডি মো. আলাউদ্দিন, উপ-পরিচালক মো. সাফরিনুর রহমান, কারওয়ানবাজার শাখার এএমডি মো. শাহনেওয়াজ খান, রাজশাহী শাখার সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুস সামাদ, সৈয়দপুর শাখাপ্রধান মো. খুরশীদ আলম এবং নওগাঁ শাখাপ্রধান আবু মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন। তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালনা করেন কোম্পানির কনসালট্যান্ট এম. এইচ. খালেদ।
কোম্পানি সচিব শেখ মো. সরফরাজ হোসেনের সঞ্চালনায় সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন পিপলস্ ইন্স্যুরেন্স পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান জাফর আহমেদ পাটোয়ারী। তিনি বলেন, সম্মেলনে অতিথি ও বক্তাদের প্রাণবন্ত আলোচনা, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার সুস্পষ্ট ব্যবসায়িক পরিকল্পনা এবং পরিচালনা পর্ষদের দিকনির্দেশনা ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করবে। পাশাপাশি নলেজ শেয়ারিং ও কর্মকর্তাদের পরামর্শ কোম্পানির পরবর্তী নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সরফরাজ হোসেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- কোম্পানির প্রাক্তন চেয়ারম্যান আবুল বাশার ও শাহজাদা মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল হক, পরিচালক মো. ফরহাদ আহমেদ আকন্দ, কবির আহমেদ, সাইফুল আরেফিন খালেদ, মো. মাহবুবুর রহমান পাটোয়ারী, মোহাম্মদ মিজান ভিক্টর মহসিন, নুভেদ মিজান ইকবাল, স্বতন্ত্র পরিচালক দিলশাদ আহমেদ, এমএমজি সারওয়ার, রুবাইয়াত আরাসহ প্রধান কার্যালয় ও শাখা অফিসের ঊর্ধ্বতন নির্বাহীরা।

