আন্তর্জাতিক

গাজায় ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ধসে তিন নারীসহ পাঁচজন নিহত

স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও দেয়াল ভেঙে পড়ায় তিন নারীসহ কমপক্ষে পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ঠান্ডার কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। গাজার বৃহত্তম হাসপাতাল আল-শিফা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুই নারী, এক কিশোর এবং একজন পুরুষ রয়েছেন। ঠান্ডাজনিত কারণে আরও বেশ কয়েকজন মারা গেছেন।
কাতার-ভিত্তিক আল জাজিরা গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হাইপোথার্মিয়ায় এক বছরের এক শিশু মারা গেছে। আগের রাতে একই কারণে আরও দুই শিশু মারা গেছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ এবং অবরোধের কারণে গাজার জীবনযাত্রার অবস্থা সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদিও ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, মানবিক সংস্থাগুলি বলছে যে শীতকালীন ঝড় সহ্য করার জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয়ের অভাব রয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক অফিস জানিয়েছে যে, গতকাল ঝড়ে শত শত তাঁবু এবং অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র উড়ে গেছে অথবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আল-শিফা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গাজা শহরের উপকূলীয় এলাকায় একটি তাঁবুর উপর আট মিটার উঁচু দেয়াল ধসে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন ৭২ বছর বয়সী মোহাম্মদ হামুদা, তার ১৫ বছর বয়সী নাতনি এবং পুত্রবধূ। এই ঘটনায় কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। গাজা শহরের পশ্চিমাঞ্চলে দেয়াল ধসে আরেকজন মহিলা নিহত হয়েছেন।
গাজা সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেছেন যে, যুদ্ধের ফলে বেশিরভাগ মানুষ তাদের নিরাপদ আশ্রয় হারিয়েছেন। ঝড়ের সময় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে আশ্রয় নেওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে প্রয়োজনীয় তাঁবু এবং আশ্রয় সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমাণে গাজায় প্রবেশ করছে না।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিস জানিয়েছে যে, তারা তাঁবু, টারপলিন, কম্বল, পোশাক এবং জরুরি সরবরাহ বিতরণ করছে। তবে, মানবিক সংস্থাগুলি অভিযোগ করেছে যে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও, প্রয়োজনীয় আশ্রয় সামগ্রী গাজায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে যে, সাহায্যের জন্য তারা শত শত ফোন পেয়েছে, বিশেষ করে শিশুদের জন্য। পশ্চিম গাজা সিটিতে প্রবল বাতাস অনেক তাঁবু সম্পূর্ণরূপে উড়িয়ে দিয়েছে।
গাজার ফিলিস্তিনি এনজিও নেটওয়ার্কের পরিচালক আমজাদ শাওয়া বলেছেন যে, উপকূলীয় এলাকার প্রায় ১০,০০০ পরিবার নতুন ঝুঁকিতে রয়েছে। গাজার মেয়র ইয়াহিয়া আল-সাররাজ বলেছেন যে, অস্থায়ী আশ্রয় এবং ওষুধের অভাবের কারণে মানুষ ব্যাপকভাবে কষ্ট পাচ্ছে।
এদিকে, ইউনিসেফ জানিয়েছে যে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে গত তিন মাসে গাজায় ১০০ জনেরও বেশি শিশু নিহত হয়েছে। এই শিশুরা বিমান হামলা, ড্রোন হামলা, ট্যাঙ্ক শেলিং এবং গুলিবর্ষণে মারা গেছে, সংস্থার মুখপাত্র জেমস এল্ডার জানিয়েছেন। এই শীতে এখন পর্যন্ত হাইপোথার্মিয়ায় ছয় শিশু মারা গেছে।