খামেনীর পতন মধ্যপ্রাচ্যকে গভীর সংকটে নিমজ্জিত করতে পারে
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর নেতৃত্বে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পতন কেবল ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনই নয়, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের সমগ্র ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রকে গুরুতর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, খামেনেই গত চার দশক ধরে ইরান যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বৃত্ত বা ‘ক্ষমতার অক্ষ’ তৈরি করেছে তার কেন্দ্রে রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে এই বিশাল নেটওয়ার্কের পতনের অর্থ হবে বিশাল ক্ষমতার শূন্যতা।
প্রক্সি নেটওয়ার্ক এবং গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি: খামেনীর পতন হলে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাক ও সিরিয়ার শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলি তাদের প্রধান অর্থায়নকারী এবং আদর্শিক অভিভাবক হারাবে। তেহরানের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া, এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়তে পারে, যা ওই দেশগুলিতে গৃহযুদ্ধের নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে। বিশেষ করে লেবানন এবং সিরিয়ায় ইরানের প্রভাব হ্রাস পেলে, তুরস্ক এবং ইসরায়েলের সরাসরি হস্তক্ষেপের মাত্রা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, যা আঞ্চলিক যুদ্ধের আগুন জ্বালাতে পারে।
শিয়া-সুন্নি মেরুকরণ এবং চরমপন্থার উত্থান: ইরানের বর্তমান সরকার শিয়া বিশ্বের একক নেতৃত্ব দাবি করে। এই কাঠামোর আকস্মিক পতন শিয়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করবে। অন্যদিকে, আইএস বা আল কায়েদার মতো উগ্র সুন্নি গোষ্ঠীগুলি এই অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে পুনরায় সংগঠিত হতে পারে। সিরিয়ায় সাম্প্রতিক আইএস আক্রমণ এর একটি প্রাথমিক সতর্কতা মাত্র।
জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিশ্ব অর্থনীতি: বিশ্বের মোট খনিজ তেলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পারস্য উপসাগর দিয়ে পরিবহন করা হয়। যদি ক্ষমতার পরিবর্তন বা ইরানে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ব্যাহত করে, তাহলে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

