পশ্চিমবঙ্গে ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণের ঘোষণা, সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দেওয়া হচ্ছে – বিজেপি নেতার দাবি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন, রাজ্যের শাসক দল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেছেন, আগামী ৬ ডিসেম্বর মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এই দিনটি বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ৩৩তম বার্ষিকী। তবে, এ নিয়ে দেশে বিরাট রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভোট ব্যাংকের রাজনীতি করে সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দেওয়ার অভিযোগ করেছে।
৬ ডিসেম্বর, ১৯৯২ – এই দিনে অযোধ্যার পাঁচশো বছরের পুরনো বাবরি মসজিদ ভাঙচুর করা হয়। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় কমপক্ষে ২০০০ মানুষ প্রাণ হারান। ২০১৯ সালে, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করে যে অযোধ্যার বিতর্কিত জমি হিন্দু সম্প্রদায়ের। যার ভিত্তিতে গত বছরের জানুয়ারিতে রাম মন্দির নির্মিত হয়েছিল।
বছর ঘুরতেই বাবরি মসজিদের নাম আবার আলোচনায় এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হুমায়ুন কবির অযোধ্যা থেকে অনেক দূরে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, তিনি ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ৩৩তম বার্ষিকীতে মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। মসজিদটি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙায় নির্মিত হবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আগামী ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। আমাদের নেতা-কর্মীরা এই দিনে সংহতি দিবস পালন করবেন। মুসলিম নেতারাও এতে অংশগ্রহণ করবেন। বেলডাঙায় মসজিদটি তৈরি করতে তিন বছর সময় লাগবে।’
হুমায়ুনের ঘোষণার পর ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভোটের জন্য পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির অভিযোগ করে। মসজিদ নির্মাণে কোনও সমস্যা না হলেও, পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা এবং দলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ মুঘল সম্রাট বাবার নামে মসজিদ নির্মাণের বিরোধিতা করেছেন।
দিলীপ ঘোষ বলেন, দেশের কোথাও মন্দির ও মসজিদ নির্মাণে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে, ‘বাবরি মসজিদ নির্মিত হবে’ – এই কথা বলা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী। কারণ বহু বছর ধরে এটিকে ঘিরে ব্যাপক আন্দোলন চলছে। বাবর একজন আক্রমণকারী ছিলেন, তাই এ দেশের মানুষ তাকে সম্মান করে না।
অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনও এই বিষয়ে একটি ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়েছে। সংগঠনের প্রধান মাওলানা সাজিদ রশিদী বলেছেন যে, সম্ভবত তারা বুঝতে পারছেন না যে একবার মসজিদ তৈরি হয়ে গেলে, এটি কেয়ামত পর্যন্ত মসজিদই থেকে যায়। ভারতে বাবরি মসজিদের নামে শত শত মসজিদ নির্মিত হলেও, অযোধ্যার মূল বাবরি মসজিদের গুরুত্ব কখনও মুছে যাবে না। প্রসঙ্গত, তৃণমূল কংগ্রেস আগামী ৬ ডিসেম্বর কলকাতায় একটি বড় রাজনৈতিক সমাবেশের প্রস্তুতিও নিচ্ছে। বাবরি মসজিদ ভাঙার প্রতিবাদে দলটি প্রতি বছর এই সমাবেশের আয়োজন করে।

