গাজা–ইসরায়েল যুদ্ধের দুই বছর পূর্তি আজ
আজ মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বর্বরতার ২ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, দক্ষিণ ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের আক্রমণের জবাবে দখলদার বাহিনী উপত্যকায় আক্রমণ শুরু করে। সেই আক্রমণ এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা ৬৭ হাজার ছাড়িয়েছে।
শুধু বিমান বা স্থল আক্রমণ নয়; দখলদার বাহিনী সেই দিন থেকে উপত্যকা অবরোধ করে রেখেছে। ফলস্বরূপ, ত্রাণের অভাবে গাজার বাসিন্দারা তীব্র ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হচ্ছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতা সংগঠন হামাসের একটি অতর্কিত হামলার জবাবে ইসরায়েল গাজায় ভয়াবহ আক্রমণ শুরু করে। দখলদার বাহিনী হামাসকে নির্মূল করার নামে ২ বছর ধরে গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে আসছে। এর ফলে ফিলিস্তিনিদের অবরুদ্ধ এই উপত্যকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
চ্যাথাম হাউসের রাজনৈতিক বিশ্লেষক সানাম ওয়াকিল বলেন, “ইসরায়েল দুই বছর ধরে গাজায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। যদিও সেখানে তারা কী অর্জন করেছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ নেটওয়ার্কের সক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে, তেল আবিব কয়েক দশকের তুলনায় আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিকভাবে অনেক বেশি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।”
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলি দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে ইসরাইল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে। ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, “ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক সানাম ওয়াকিল বলেন, “ইসরায়েল গাজায় গণহত্যার চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ করেছে। আইডিএফ ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের উপর মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি করেছে।
সেখানে একটি পরিকল্পিত জীবনযাত্রা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা তাদের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ফিলিস্তিনিদের জাতিগতভাবে ধ্বংস করার পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরাইল।’
আইডিএফের ক্রমাগত আক্রমণে গাজায় এখন পর্যন্ত ৬৭,০০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। প্রায় ১৭০,০০০ আহত হয়েছে। ফিলিস্তিনকে সমর্থন করার জন্য ইসরায়েল ইরান, সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন এবং কাতারেও আক্রমণ করেছে।

