আন্তর্জাতিক

৫৩ বছর পর মানুষ আবার চাঁদে যাচ্ছে

৫০ বছরেরও বেশি সময় পর মানুষ আবার চাঁদে যাচ্ছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা আর্টেমিস-২ মহাকাশ অভিযানটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে। আজ বুধবার (২ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬:৩৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে এই অভিযানটি শুরু হয়।
জানা গেছে, চাঁদকে কেন্দ্র করে এই ঐতিহাসিক যাত্রায় চারজন মহাকাশচারী রয়েছেন। তিনজন আমেরিকান এবং একজন কানাডিয়ান। যার মাধ্যমে প্রায় ৫৩ বছর পর মানুষ আবার চাঁদে পা রাখল। ৩২-তলা রকেটটি কেপ ক্যানাভেরালে নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উড্ডয়ন করে, যেখানে এই উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করতে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল। রকেট উৎক্ষেপণের সময় নাসার কর্মী এবং দর্শনার্থীরা উচ্ছ্বসিত ছিলেন।
আর্টেমিস-২ অভিযানের উৎক্ষেপণের আগে চূড়ান্ত পরীক্ষার সময় মহাকাশচারীরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। সেই সময় কানাডিয়ান মহাকাশচারী জেরেমি হ্যানসেন বলেন, “আমরা সমগ্র মানবজাতির পক্ষ থেকে চাঁদে যাচ্ছি।” এরপর, আর্টেমিস-২ মিশনের উৎক্ষেপণ পরিচালক চার্লি ব্ল্যাকওয়েল-থম্পসন সরাসরি নভোচারীদের উদ্দেশে ভাষণ দেন।
তিনি বলেন, “রিড, ভিক্টর, ক্রিস্টিনা এবং জেরেমি—এই ঐতিহাসিক মিশনে আপনারা আপনাদের সাথে বহন করছেন আর্টেমিস-২ দলের হৃদয়, বিশ্বজুড়ে আমাদের সহযোগীদের সমর্থন এবং এক নতুন প্রজন্মের আশা ও স্বপ্ন। শুভকামনা। ঈশ্বর আপনাদের সহায় হোন। চলো আর্টেমিস-২।”
আর্টেমিস-২ মিশনে চাঁদে পা রাখা চারজন নভোচারী হলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন।
প্রথম পর্যায়ে, মহাকাশযানটির নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা চালানো হবে, কারণ এটি এর আগে কখনও মানুষ বহন করেনি। এরপর তারা প্রায় ১০ দিন ধরে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করবে, যদিও তারা সেখানে অবতরণ করবে না। ডকিং সিমুলেশনের সময় মহাকাশযানটির ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাও পরীক্ষা করা হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০২৮ সালে আর্টেমিস-৪ অভিযানের মাধ্যমে চাঁদে পুনরায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো অভিযানের পর এটি হবে নাসার প্রথম চন্দ্র অবতরণ।