স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র ইসরায়েলের ধ্বংসের মঞ্চ হবে: নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন যে তিনি ফিলিস্তিনিদের সাথে শান্তি চান। তবে, তিনি বলেছেন যে ভবিষ্যতের যেকোনো স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র ইসরায়েলের ধ্বংসের মঞ্চ হবে। তাই, তিনি বলেছেন যে সার্বভৌম ক্ষমতা ইসরায়েলের কাছেই থাকা উচিত নিরাপত্তার কারণে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুসারে, সোমবার (৭ জুলাই) হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বৈঠকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। নেতানিয়াহু বলেন যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের উপর আক্রমণ চালানো হয়েছিল। উপত্যকাটি হামাসের নিয়ন্ত্রণে। এ থেকে ধারণা করা যায় যে, ফিলিস্তিনিরা যদি একটি রাষ্ট্র পায় তাহলে তারা কী করতে পারে। এই সময়ে, সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করেন যে, দুই-রাষ্ট্রীয় সমাধান গঠনই কি সমাধান? ট্রাম্প উত্তর দেন, “আমি জানি না।” তারপর নেতানিয়াহু বলেন, “আমি মনে করি ফিলিস্তিনিদের নিজেদের শাসন করার সমস্ত ক্ষমতা থাকা উচিত, কিন্তু আমাদের হুমকি দেওয়ার মতো কোনও ক্ষমতা থাকা উচিত নয়। এর অর্থ সার্বভৌম ক্ষমতা – যেমন সামগ্রিক নিরাপত্তা – সর্বদা আমাদের হাতে থাকবে।” তিনি আরও বলেন, ৭ অক্টোবরের হামলার পর মানুষ বলছে, ফিলিস্তিনিদের একটি রাষ্ট্র আছে। আর হামাস রাষ্ট্র হলো গাজা। কিন্তু তারা সেখানে কী করেছে? তারা এটা সুন্দরভাবে তৈরি করেনি, তারা সেখানে বাঙ্কার, সন্ত্রাসী সুড়ঙ্গ তৈরি করেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তারপর তারা আমাদের জনগণকে গণহত্যা করেছে, নারীদের ধর্ষণ করেছে, পুরুষদের শিরশ্ছেদ করেছে, আমাদের কিব্বুতজিমে আক্রমণ করেছে এবং ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। যেমনটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং নাৎসিদের সময় হলোকাস্টে দেখা গিয়েছিল। তাই এখন মানুষ সহজে বলবে না, আসুন তাদের আরেকটি রাষ্ট্র দেই। কারণ এটি হবে ইসরায়েলকে ধ্বংস করার একটি প্ল্যাটফর্ম। নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা আমাদের ফিলিস্তিনি প্রতিবেশীদের সাথে শান্তি স্থাপন করব যারা আমাদের ধ্বংস করতে চায় না। এবং সেই শান্তি এমন হবে যেখানে আমাদের নিরাপত্তা—সার্বভৌম নিরাপত্তার শক্তি—সর্বদা আমাদের হাতে থাকবে।” ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে কখনও প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “এখন অনেকেই বলবে, ‘এটি একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র নয়, এটি একটি রাষ্ট্র নয়, এটিই সেই।’ এটা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমরা শপথ করেছি—আর কখনও নয়। আর কখনও নয়—অর্থাৎ এখন। এটা আর কখনও হতে দেওয়া হবে না।”

