সাংবাদিক জিন্নাহ’র ওপর হামলার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন
সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এক সাংবাদিকের ওপর হামলা এবং তার প্রতিবাদে স্থানীয় সাংবাদিকরা একটি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।
আজ রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে শহরের নিউ মার্কেটের শহীদ এস. এম. আলাউদ্দিন চত্বরে সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখার পর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহারের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. বেলাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিক এস. এম. জুলফিকার আলী জিন্নাহর ওপর বর্বর হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার না করে ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়েছে।
মানবকণ্ঠ জেলা প্রতিনিধি মেহেদী আলী সুজয়, যিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না, তাকেও এই মামলায় জড়ানো হয়েছে, যা অবিচারী ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা আরও বলেন যে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। যখনই তারা সেবার জন্য সিন্ডিকেটের বাইরে যান, তখনই তাদের হয়রানি ও আক্রমণের শিকার হতে হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন প্রবীণ সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জী, প্রেস ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপী, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, এনটিভির এস.এম. জুলফিকার আলী জিন্নাহ, কালবেলা ও স্টার নিউজের গাজী ফরহাদ, সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন আলী এবং স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা।
বক্তারা বলেন যে, একটি সরকারি দপ্তরে এমন নৈরাজ্য চলতে পারে না। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে এবং মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। এই সময়ে তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়ন না করা হলে আরও বড় আন্দোলন সংগঠিত করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ মার্চ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে আদালতকক্ষে থাকাকালীন সাংবাদিক জিন্নাহ আক্রান্ত হন।
অভিযোগ করা হয় যে, অফিসের একটি সিন্ডিকেট বাইরে সক্রিয় থাকায় এই হামলা চালানো হয়েছিল। এই ঘটনায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক চাপের কারণে পুলিশ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করে। এতে সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

