বিবিধ

সংরক্ষিত নারী আসন চট্টগ্রামে রোজি কবির কন্যা ডা. ফারাহ নাজকে মনোনয়নের দাবি

সাবেক সংসদ সদস্য বেগম রোজি কবিরের উত্তরসূরি হিসেবে চট্টগ্রাম থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে ডা. ফারাহ নাজ মাবুদকে মনোনয়নের দাবি উঠেছে। চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ, সুশীল সমাজ, চিকিৎসক সম্প্রদায় ও বিএনপি কর্মী-সমর্থকরা এ দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, চট্টগ্রাম থেকে বিএনপি ১৪টি আসনে বিজয় অর্জন করেছে। তার রাজনৈতিক ও নৈতিক স্বীকৃতি হিসাবে বেগম রোজি কবিরের কন্যা ডা. ফারাহ নাজ মাবুদ মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য। তাকে নির্বাচিত করা হলে; তা হবে চট্টগ্রামের মানুষের ত্যাগ, সংগ্রামের সম্মাননা এবং নারী নেতৃত্ব বিকাশের এক উজ্জ্বল মাইলফলক।
দলীয় সূত্র বলছে, বাংলাদেশ পুনর্গঠনে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান নতুন, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বকে সামনে আনার নীতি গ্রহণ করেছে; যেখানে পেশাগত দক্ষতা, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও মানুষের প্রতি নিবেদিত সেবাবোধকে প্রধান মানদণ্ড ধরা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে দক্ষ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং দীর্ঘদিন মানবসেবা ও সামাজিক কাজে সরাসরি যুক্ত ডা. ফারাহ নাজ মাবুদ চট্টগ্রাম থেকে নারীদের সংরক্ষিত আসনে একজন সময়োপযোগী ও যোগ্য প্রতিনিধিত্বশীল মুখ। যা নতুন প্রজন্মের নারী নেতৃত্বকে এগিয়ে নেওয়ার বাস্তব উদাহরণ হতে পারে।
জানা গেছে, তিনবারের এমপি, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ‘অগ্নিকন্যা’ খ্যাত ও চট্টগ্রামের একমাত্র তিনবারের নারী সংসদ সদস্য বেগম রোজি কবির। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, বেগম খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা ও বিএনপির জাতীয়, আন্তর্জাতিক ও তৃণমূল রাজনীতির এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। বেগম রোজি কবিরের বাসভবন এবং প্রতিষ্ঠান হোটেল শাহজাহান ছিল আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নিরাপদ আশ্রয়, নীতি–নির্ধারণ ও কৌশল প্রণয়নের কেন্দ্রবিন্দু।
শহীদ জিয়াউর রহমানের রাজনীতি থেকে শুরু করে ৯০- এর গণঅভ্যুত্থান, ১/১১, সবকটি জরুরি সময়কাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনীতির যে স্নায়ুকেন্দ্র গড়ে উঠেছিল, তার অন্যতম স্থপতি ছিলেন বেগম রোজি কবির। তিনি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) সদস্য হিসেবে নগর উন্নয়ন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবে উচ্চ শিক্ষা এবং জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটিতে থেকে নারী–শিশু ও সমাজ কল্যাণের নীতি নির্ধারণী কাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ), বিমসটেক, সার্ক ও বিশ্ব সামাজিক উন্নয়ন সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি চট্টগ্রাম ও বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।
তাঁরই রাজনৈতিক ও মানবিক উত্তরাধিকার বহন করে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে এগিয়ে এসেছেন তাঁরই কন্যা– ডা. ফারাহ নাজ মাবুদ। পেশাগত জীবনে তিনি চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক (অবস অ্যান্ড গাইনী)। দীর্ঘদিন ধরে নারী ও প্রসূতি মায়ের স্বাস্থ্যসেবা এবং বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় নৈতিকতার সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে সেবা দিয়ে আসছেন।
শিক্ষা জীবনে ডা. ফারাহ নাজ ফাতিমা জিন্নাহ মেডিকেল কলেজ, লাহোর (সার্ক ও জিটুজি স্কলারশিপের মাধ্যমে) থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন; পরবর্তীতে এমসিপিএস, এমএস (অবস অ্যান্ড গাইনী) সম্পন্ন করে নিজেকে একজন দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে তিনি ভারতের বেঙ্গালুরুতে রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিনে ফেলোশিপ, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের মার্সি হসপিটাল ফর উইমেন–এ আরএএনজেডসিওজি-এর স্কলারশিপে আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ, যুক্তরাজ্যের আরসিওজি কংগ্রেসে পোস্টার প্রেজেন্টেশন, অস্ট্রেলিয়ার গোল্ডকোস্টে আরএএনজেডসিওজি এজিএম, থাইল্যান্ড, ভারত, বাংলাদেশসহ একাধিক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে স্পিকার ও ডেলিগেট হিসেবে অংশ গ্রহণ করেছেন।
একজন গবেষক হিসেবে ডা. ফারাহ নাজের ১১টি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ দেশের ও বিদেশের স্বনামধন্য জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগং (ইউএসটিসি)-এ দীর্ঘ ১১ বছর শিক্ষকতা ও রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনীতি ও মানবসেবার সঙ্গে তাঁর অন্তর্গত সংযোগ ছোটবেলা থেকেই গড়ে উঠেছে মায়ের পাশে থেকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ঘনিষ্ঠ পরিবেশে বড় হওয়ার মধ্য দিয়ে। সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডেও ডা. ফারাহ নাজ মাবুদ সরাসরি যুক্ত। বর্তমানে ফ্যামিলি প্ল্যানিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জাতীয় কাউন্সিলর, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সিটি ইউনিটের কার্যকরী সদস্য, রেডক্রিসেন্ট ইয়ুথ অ্যালামনাইয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব ) আজীবন সদস্য হিসেবে সামাজিক ও মানবিক কাজেও সরাসরি সম্পৃক্ত।
ডা. ফারাহ নাজের রাজনৈতিক দর্শন মায়ের মতোই গণতন্ত্র, মানবাধিকার, নারীর মর্যাদা ও ন্যায় ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আদর্শে বিশ্বাসী। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের মানুষের ত্যাগ, বিএনপির দীর্ঘ সংগ্রাম এবং এই অঞ্চলের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে মূল্যায়ন করতে হলে নারীদের সংরক্ষিত আসনে চট্টগ্রাম থেকে সৎ, শিক্ষিত, পেশাগতভাবে সফল ও মানবসেবায় প্রমাণিত নেতৃত্বকে সামনে আনতে হবে। দল আমাকে দায়িত্ব দিলে যোগ্যতা ও নৈতিকতার সঙ্গে কাজ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।