রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে যাওয়া নাসিমা পদ্মা নদীতে বাসডুবিতে মারা গেছেন
১২ বছর আগে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে যাওয়া নাসিমা বেগম দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবিতে মারা গেছেন। ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফেরার পথে তিনি ও তার দুই আত্মীয় মারা যান। নাসিমা বেগম, দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ি ইউনিয়ন নং ৪-এর মধ্য আত্রাই গ্রামের প্রয়াত নূর ইসলামের স্ত্রী।
২০১৩ সালের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে যাওয়াদের মধ্যে নাসিমা একটি পরিচিত নাম। ঘটনার তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। ভাগ্য সহায় থাকা সত্ত্বেও দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে বাসডুবিতে তার জীবন অকালে শেষ হয়ে যায়।
জানা গেছে, নাসিমা জীবিকার সন্ধানে ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভারে তার ভাইঝি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে গিয়েছিলেন। এক মাস চেষ্টা করেও তিনি চাকরি পাননি। পরে ঈদে তিনি ফরিদপুরে আজমিরার শ্বশুরবাড়িতে যান। গত বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে নাসিমা, তার অন্তঃসত্ত্বা ভাইঝি আজমিরা খাতুন, ভাইঝির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ এবং চার বছরের শিশু আবদুর রহমান বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় তারা সবাই ডুবে যান। ডুবে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই আব্দুল আজিজকে জীবিত উদ্ধার করা হয়, কিন্তু উদ্ধারকারীরা নাসিমা ও বাকি তিনজনের মরদেহ প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে উদ্ধার করে।
নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী জানান, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার সময় নাসিমা সেখানে কাজ করতেন। ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে তিন দিন আটকে থাকার পর তিনি অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার হন। তারপর থেকে নাসিমা তার গ্রামের বাড়িতেই বসবাস করছিলেন। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার সন্ধানে তিনি আবার ঢাকায় ফিরে আসেন। সেই ফেরার পথেই তিনি মারা যান। পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন জানান, জেলা প্রশাসক নাসিমার বাড়িতে গিয়ে তাকে নগদ ২৫ হাজার টাকা দেন।

