দেশজুড়ে

রংপুরে রেক্টিফাইড স্পিরিটে মৃত্যু বেড়ে ৬

রংপুরে একটি হোমিওপ্যাথিক ফার্মেসি থেকে সংগ্রহ করা রেক্টিফাইড স্পিরিট অ্যালকোহল পানের ঘটনায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে গত তিন দিনে মোট মৃত্যুর সংখ্যা এলো ৬ জনের। আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তারা হলেন বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্ব শিবপুর গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মালেক এবং রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর বন্দর কলেজ পাড়ার মৃত মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম। গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) মধ্যরাতে তাদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গত রবিবার (১১ জানুয়ারী) মধ্যরাতে বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরহাট এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী জয়নুল আবেদীনের বাড়িতে রেক্টিফাইড স্পিরিট অ্যালকোহল পান করে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেন, পূর্ব শিবপুর গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহেল মিয়া এবং সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের জেন্নাদ আলী (৩৫) ঘটনাস্থলেই মারা যান। আরও বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন স্থানে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এছাড়াও, একই রকম আরেকটি ঘটনায় হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হাজিরহাট থানার ওসি আজাদ রহমান আমাদেরকে জানান, গত সোমবার সন্ধ্যায় শহরের হাজিরহাট থানার বালারবাজারে মদ্যপান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন সদর কোতোয়ালি থানার শিবের বাজার পশ্চিম হিন্দুপাড়ার মৃত অনিল চন্দ্র রায়ের ছেলে মানিক চন্দ্র রায় (৬০)। গতকাল বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ওসি আরও জানান, আরও বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন স্থানে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই সময়ে মাদক ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় বদরগঞ্জ ও হাজিরহাট থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ১০ বোতল রেক্টিফাইড স্পিরিট উদ্ধার করা হয়েছে।
রংপুরের পুলিশ সুপার মারুফত হোসেন বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা স্থানীয় একটি হোমিওপ্যাথিক চেম্বার থেকে ওষুধ সংগ্রহ করে। গোয়েন্দা পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিভাগ শহরের একটি হোমিওপ্যাথিক চেম্বারেও অভিযান চালিয়েছে। আমরা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি। অভিযান চলছে।