আন্তর্জাতিক

যুদ্ধ সমাপ্তির ঘোষণার জন্য ইরানের রাষ্ট্রপতির দেওয়া শর্ত

ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন যে, মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জাতীয় ঐক্যের একটি প্রকাশ এবং বর্তমান সংকট মোকাবেলায় একটি নির্ণায়ক শক্তি। যুদ্ধ সমাপ্তির শর্ত দিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, মার্কিন ও ইসরায়েলিদের চাপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধে যেকোনো সমাধান বা সিদ্ধান্ত কেবল ইরানের শর্ত ও জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত হওয়ার পরেই নেওয়া হবে।
গতকাল সোমবার (৩০ মার্চ) রাষ্ট্রপতি পেজেশকিয়ানের সভাপতিত্বে ইরানের মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকের মাধ্যমে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হয় এবং জরুরি পরিষেবা বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়।
বৈঠকে যুদ্ধকালীন বিশেষ পরিস্থিতিতে দেশের সার্বিক অবস্থা, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও পরিষেবা প্রতিষ্ঠানের গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মন্ত্রিসভার সদস্যরা পরিষেবা অব্যাহত রাখা, সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা এবং জনগণের মনে শান্তি বজায় রাখার জন্য নিজ নিজ বিভাগের প্রতিবেদনে এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
পেজেশকিয়ান এই সংকটকালে জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানের জন্য সকল খাতের প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন যে, আগ্রাসন মোকাবেলায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং সেবার ধারাবাহিকতাই জাতীয় সক্ষমতার প্রধান স্তম্ভ। তিনি বলেন, শত্রুর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই ধারা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আক্রমণকারীদের কঠোর জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বাহিনীর এই প্রতিরোধকে জাতির গৌরবময় ইতিহাসের একটি “সোনালী অধ্যায়” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
একই সাথে, তিনি গত এক মাসে ইসলামী ব্যবস্থা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থনে ইরানি জনগণের অভূতপূর্ব ঐক্য এবং ব্যাপক সমাবেশের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জনগণের এই সচেতন উপস্থিতি জাতীয় ঐক্যের একটি প্রকাশ এবং বর্তমান পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী সহায়ক। মাসুদ পেজেশকিয়ান এই বলে উপসংহার টানেন যে, ইরানের সম্মান, নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল যুদ্ধ শেষ করার যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।