বিবিধ

মোবাইল ফোন রেখে যেতে বলায় স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা, পরিবারের দাবি

বরিশালের মুলাদীতে জৈতিমনি (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারী) রাত ১০টার দিকে মুলাদী পৌরসভার বেইলি ব্রিজ (শহর) এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
জৈতিমনি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ার নয়ারবাড়ি গ্রামের মৃত রিপন রায়ের মেয়ে। তার মা ঝুমা সরকার মুলাদী সরকারি মাহমুদজান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। জৈতিমনি ওই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী (২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী) ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, পড়াশোনার জন্য মোবাইল ফোন রেখে যেতে বলায় সে আত্মহত্যা করেছে।
জৈতিমনির মা ঝুমা সরকার জানান, গতকাল সন্ধ্যায় তার মেয়ে প্রাইভেট পড়া শেষে একটু দেরিতে বাড়ি ফিরে আসে। রাত ৯টার দিকে সে পড়াশোনার পরিবর্তে মোবাইল ফোনের দিকে তাকাতে শুরু করে। কয়েকদিন পর এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে তাই তাকে মোবাইল ফোন রেখে পড়াশোনা করতে বলা হয়। সেই সময় জৈতিমণি রেগে গিয়ে মোবাইল ফোন দিয়ে তার ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে খাবারের জন্য ডাকলে সাড়া না পেয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে মেয়ের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান এবং চিৎকার করেন। পরে রাত ১০টার দিকে মুলাদী থানার পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে।
ঝুমা সরকার আরও জানান, জৈতিমণি তার বাবা রিপন রায়কে খুব ভালোবাসতেন। বাবার মৃত্যুর পর মেয়ের মানসিক ভারসাম্য ভেঙে পড়েছিল। কিছুদিন ধরেই সে বলে আসছিল যে সে তার বাবার কাছে যাবে।
মুলাদী থানার ওসি আরাফাত জাহান চৌধুরী বলেন, রাতে স্কুলছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, মায়ের প্রতি অভিমানে সে আত্মহত্যা করেছে। এই ঘটনায় থানায় দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (বুধবার) সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।