দেশজুড়ে

মতলবে মেয়েকে হয়রানির প্রতিবাদ করায় বাবাকে পিটিয়ে হত্যা

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মেয়েকে হয়রানির প্রতিবাদ করায় এক বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের হরিনা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম মো. জাকির হোসেন মিয়াজী (৪৫)। গতকাল রবিবার (৮ মার্চ) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাকির হোসেনের মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলে পড়ত। প্রতিদিনই কিছু যুবক তাকে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে উত্যক্ত করত। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে নিশ্চিন্তপুর গ্রামের নাসির হোসেন মিয়াজীর ছেলে ফায়ম মিয়াজী, আইনুল কবির ফটিকের ছেলে মো. সাফিন, নওদোনা গ্রামের মিজান বেপারীর ছেলে রিফাত বেপারী এবং মহসিন শিকদারের ছেলে রিয়াদ শিকদারসহ আরও ১০ থেকে ১৫ জন।
জাকির হোসেন ঘটনাটি নিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করেছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আসামিরা ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নিশ্চিন্তপুর বাজারে তার উপর হামলা চালায়। তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। টানা ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল ভোর ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়। জাকির হোসেনের ছোট ভাই হোসেন মিয়াজি এ ব্যাপারে চাঁদপুর আদালতে মামলা করেছেন।
নিহতের মেয়ে বলেন, “স্কুলে যাওয়ার সময় কিছু ছেলে প্রায়ই আমাকে হেনস্থা করত। আমি যখন আমার বাবাকে বিষয়টি জানাই, তখন তিনি স্কুলে অভিযোগ করেন। ফলে আমার বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।” নিহতের স্ত্রী বলেন, “আমার স্বামী একজন কৃষক ছিলেন। তার মেয়ের হয়রানির প্রতিবাদ করলে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আমার ছোট বাচ্চা আছে, এখন আমি তাদের সাথে কীভাবে থাকব? আমি আমার স্বামীর হত্যার সঠিক বিচার চাই।”
এ ব্যাপারে নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আরিফুল্লা বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। কেউ আমাকে এ বিষয়ে অবহিত করেনি।” মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, জাকির হোসেন মিয়াজীকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এই ঘটনায় নতুন করে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।