রাজনীতি

বিএনপি নেতাকর্মীরা ভোটারদের হুমকি দিচ্ছেন: সারজিস

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্টতই আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের প্রধান সংগঠক এবং পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদীয় প্রার্থী মো. সারজিস আলম।
দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা ভোটার এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের হুমকি দিচ্ছে। আমরা বলতে চাই – এই বাংলাদেশে আর ভয়ের রাজনীতি চলবে না।’
আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে টোকেন বরাদ্দ পাওয়ার পর তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশ্যে একথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শোকবার্তার নামে বিএনপি ঘরে ঘরে যে লিফলেট নিয়ে গেছে। এটি শেষ পর্যন্ত ঘরে ঘরে সহানুভূতি জানাতে এবং ভোট চাওয়ার আরেকটি উপায়। আমরা এ বিষয়ে কোনও অভিযোগ করিনি। তারেক রহমান কড়াইল বস্তিতে একটি অনুষ্ঠানে দলীয় প্রধান হিসেবে কার্ড দেখাচ্ছেন। তিনি বলছেন – এটা হবে, ওটা হবে। যা নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি কাউকে ভোট চাইতে প্রলুব্ধ করতে পারবেন না।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘যদি কোনও দলের নেতা তার জায়গা থেকে এই ধরণের কার্ড দেখান – যার অস্তিত্বই নেই। তারা সরকার গঠন করতে পারবেন কিনা তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। তিনি সেখানে এভাবে ভোট চাইতে মানুষকে প্রলুব্ধ করতে পারবেন না। এভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করার পরেও আমরা এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও অভিযোগ দায়ের করিনি।’
সারজিস আলম অভিযোগ করেন যে, বিএনপি নেতা-কর্মীরা হুমকি দিচ্ছেন, তিনি বলেন, ‘স্থানীয়, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন এবং উপজেলা স্তরের বিএনপি নেতা-কর্মীরা ভোটার এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের হুমকি দিচ্ছেন। আমরা বলতে চাই যে এই বাংলাদেশে ভয়ের রাজনীতি চলবে না। যারা এই নিপীড়নের রাজনীতি করতে চান তাদের জন্য এক বছর চার মাস আগে বাংলাদেশে একটি নজির স্থাপন করা হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের জায়গা থেকে ভোটারদের কাছ থেকে ভোট চাইতে পারি। কিন্তু আমাদের তা দিতে হবে, যদি না হয়, তাহলে আমরা দেখব – আমরা কোনওভাবেই এমন কিছু আশা করি না। আমরা আজ মৌখিক অভিযোগ করেছি। প্রয়োজনে আমরা লিখিত অভিযোগ করব।’ কিন্তু আমরা এটা কোনওভাবেই মেনে নেব না।’
সারজিস আলম বলেন, ‘ছোট রাজনৈতিক দলের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে আমরা এমন কোনও অভিযোগ করিনি। আমরা মনে করি এটি কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে একটি সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় কাজ করছি। যদি ভোটার, আমাদের কর্মী, সমর্থক এবং দলের নেতা-কর্মী এবং ১০টি দলের কাউকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়, তাহলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায়, আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব। এই বাংলাদেশ অতীতের বাংলাদেশ নয়।’
স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল কি দমন-পীড়ন করবে আর বাকিরা নাটক দেখবে? বাংলাদেশে আর নাটকের সময় নেই। আমি অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিকে বলছি—আমরা এখন পর্যন্ত কাউকে হুমকি দেইনি, দেব না। এটা আমাদের রাজনৈতিক চরিত্রে নেই। বিএনপি যে কার্ডের কথা বলছে—তারা এই কার্ড দিয়ে জনগণকে তেল, চাল, ডাল দেবে। তারা কি জনগণকে অক্ষম করতে চায়? আমরা একটি স্বচ্ছ নির্বাচন চাই—এর জন্য আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’