প্রতিশোধ নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না: ইরানের রাষ্ট্রপতি
ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, কূটনীতির মাধ্যমে সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করেছিল ইরান, কিন্তু আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলার পর, প্রতিশোধ নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। এদিকে, হোয়াইট হাউস বলছে যে, হামলার আগে আমেরিকা ইরানকে বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করার পর, দেশটিতে অভিযান চালানো হয়। অন্যদিকে, জার্মানি স্পষ্ট জানিয়েছে যে তারা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে অংশগ্রহণ করবে না।
পরমাণু ইস্যুতে পরোক্ষ আলোচনার মধ্যে গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানে যৌথ বিমান হামলা চালায় আমেরিকা ও ইসরায়েল। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলির বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তেহরান। গতকাল বুধবার (৪ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন যে, তেহরান কূটনীতির মাধ্যমে সংঘাত এড়াতে চায়। কিন্তু ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের হামলার পর, তাদের সামনে আর কোনও উপায় খোলা ছিল না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে পরিচালিত অপারেশন এপিক ফিউরি নিয়ে বিশ্বে তোলপাড় চলছে। গতকাল হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিংয়ে ইরানের আক্রমণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিষয়টিও উঠে আসে। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছেন যে, ইরান আক্রমণ করতে পারে এমন ট্রাম্পের “অনুভূতির” ভিত্তিতেই এই আগাম হামলা চালানো হয়েছিল।
লেভিট আরও দাবি করেছেন যে, ইরান আক্রমণ করার আগে ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের কাছে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল ইরানের উপর থেকে সমস্ত কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ এবং মার্কিন বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি যৌথ বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি চালু করা। তবে, বিনিময়ে ইরানকে তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অবকাঠামো স্থায়ীভাবে ধ্বংস করার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। লেভিট দাবি করেছেন যে, ইরান এই “শান্তি প্রস্তাব” প্রত্যাখ্যান করায় আমেরিকা দেশটির উপর হামলা চালিয়েছে।
লেভিট আরও বলেছেন যে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হামলার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেছেন যে, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর ইরানের নেতৃত্ব এবং তার উত্তরসূরির শূন্যতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।

