দেশজুড়ে

নিম্নমানের ইট ব্যবহার করে রাস্তা পুনর্নির্মাণ, প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় একটি সরকারি প্রকল্পের আওতায় রাস্তা পুনর্নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে তাড়াহুড়ো করে কাজ শেষ করার চেষ্টা করছে।
স্থানীয়রা জানান যে, কালীগঞ্জ উপজেলার চালবালা ইউনিয়নের দুহুলী বাজার থেকে নামুরীহাট পর্যন্ত প্রায় ৯০০ মিটার রাস্তার পুনর্নির্মাণ কাজ বর্তমানে চলছে। অভিযোগ রয়েছে যে রাস্তার ভিত্তি নির্মাণে নম্বরহীন এবং নিম্নমানের ইট (আবর্জনা) ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের বারবার আপত্তি সত্ত্বেও ঠিকাদার তাদের উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেছেন যে, এই কাজে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর নীরব ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের আওতায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শান ট্রেডার্স নামুরীহাট থেকে দুহুলী বাজার পর্যন্ত ৯০০ মিটার রাস্তা পুনর্নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে। ০৫/২৫-২৬ নম্বর দরপত্র বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ৭৫ লক্ষ ২৪ হাজার ৬৯০ টাকা। কাজটি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে শুরু হয়েছিল এবং নির্ধারিত সমাপ্তির তারিখ ৩১ মার্চ ২০২৬।
তবে অভিযোগ উঠেছে যে নির্ধারিত সময় থাকা সত্ত্বেও ঠিকাদার মশিউর রহমান অযথাযথ ও নিম্নমানের কাজ করে দ্রুত প্রকল্পটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হাবিব মিয়া অভিযোগ করেছেন, “নিম্নমানের ইট বিছিয়ে রাস্তার কাজ করা হচ্ছে। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তাটি নষ্ট হয়ে যাবে। আমাদের আবার আগের মতোই দুর্ভোগ পোহাতে হবে। আমরা এটি বন্ধ করে দিলেও কেউ কোনও মনোযোগ দিচ্ছে না।”
গতকাল সোমবার (১৯ জানুয়ারী) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সে সময় দেখা যায়, রাস্তার কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশল বিভাগের দুই সহকারী কর্মকর্তা উপস্থিত থাকলেও তাদের সামনে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছিল। এদিকে, রাস্তার কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা কালীগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইমন এই বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে কোনও বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ঠিকাদার মশিউর রহমান ফোন ধরেননি। এ প্রসঙ্গে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, “নিম্নমানের বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”