দেশজুড়ে

তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত: যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সিলেটে ১৫০০-এর বেশি যাত্রী আটকা

চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী ৯৫১ বিটিও (তেলবাহী ওয়াগন) হবিগঞ্জের শায়েস্তগঞ্জ মানতলায় লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে সারাদেশের সঙ্গে সিলেটের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় সিলেট রেল স্টেশনে ১৫০০-এর বেশি যাত্রী আটকা পড়েছেন।
গতকাল বুধবার (১ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মানতলা লোকাল স্টেশন অতিক্রম করার সময় এই লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটে।
ফলে সিলেট-চট্টগ্রাম ও ঢাকা রুটে চলাচলকারী সব ট্রেন আটকা পড়েছে এবং যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ট্রেনগুলো তাদের প্রারম্ভিক স্টেশনে পৌঁছাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। রাত সাড়ে ১১টায় সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস এবং ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস সিলেট ছাড়েনি।
সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার নুরুল ইসলাম আমাদেরকে জানান, দুর্ঘটনার কারণে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেসের দেড় হাজারের বেশি যাত্রী আটকা পড়েছেন। তাঁদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
আখাউড়া জংশনের লোকো ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা রাত ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে খবরটি পাই। দুর্ঘটনাগ্রস্ত তেলবাহী ইউপি ট্রেনটিকে উদ্ধারের জন্য আখাউড়া ও ঢাকা থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এদিকে জানা গেছে, ৯৫১ বিটিও (তেলবাহী ওয়াগন) ট্রেনটি দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন ওয়াগনটি থেকে তেল সংগ্রহ করতে ছুটে যান।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী ৪টি তেলবাহী ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়েছিল। এর আগে, ওই বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম থেকে সিলেট যাওয়ার পথে ফেঞ্চুগঞ্জের মাইজগাঁও রেলস্টেশনের কাছে একটি তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়, যাতে ১০টি বগির মধ্যে সাতটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় প্রায় ৮০০ মিটার রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনায় ১ লাখ ৬০ হাজার লিটার তেল ছড়িয়ে পড়ে। দেশজুড়ে সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ প্রায় ২৮ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ছিল। ২০২৬ সালের মার্চে এই রুটে আরও একটি তেলবাহী ওয়াগন লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছিল যখন দেশজুড়ে তেল সংকট চলছিল।