আন্তর্জাতিক

টেম্পো চালক থেকে বিমানের মালিক

টেম্পো চালানো থেকে শুরু করে নিজস্ব বিমান সংস্থা তৈরি, শ্রাবণ কুমার বিশ্বকর্মার জীবন এক অনন্য এবং অনুপ্রেরণামূলক গল্প। উত্তর প্রদেশের কানপুরের এই উদ্যোক্তা এখন ভারতের নতুন বিমান সংস্থা শ্যাঙ্ক এয়ারের প্রতিষ্ঠাতা। হিন্দুস্তান টাইমসের মতে। শ্রাবণ ছোটবেলায় পড়াশোনায় খুব একটা মনোযোগী ছিলেন না। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি বিভিন্ন চাকরি করতেন। একসময় টেম্পো চালাতেন। লোডার হিসেবেও কাজ করতেন। জীবনের শুরুটা ছিল কঠিন।
তবে ব্যর্থতা তাকে থামাতে পারেনি। তিনি একটি ছোট ব্যবসা শুরু করেছিলেন। প্রথমদিকে তিনি সফল হননি। তারপর ২০১৪ সালে তিনি সিমেন্ট ও ইস্পাত ব্যবসায় যোগ দেন। তারপরও, যেন তিনি আলাদিনের প্রদীপ পেয়েছিলেন। যেখানেই তিনি স্পর্শ করেছিলেন, সোনা গজিয়ে উঠতে শুরু করেছিল। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবহন খাতে তার অবস্থান মজবুত করেছিলেন। সময়ের সাথে সাথে, তিনি একটি বিশাল ট্রাক বহর তৈরি করেছিলেন।
চার বছর আগে, শ্রাবণের একটি বড় স্বপ্ন ছিল। তিনি নিজের বিমান সংস্থা শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘ প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তিনি সময় দিয়েছিলেন। অবশেষে, তার স্বপ্ন বাস্তবের পথে। শ্যাঙ্ক এয়ার ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে একটি অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পেয়েছে। কোম্পানিটি ২০২৬ সালের প্রথম দিকে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করার পরিকল্পনা করছে।
প্রাথমিকভাবে, শ্যাঙ্ক এয়ার তিনটি এয়ারবাস বিমান দিয়ে যাত্রা শুরু করবে। লখনউ থেকে দিল্লি এবং মুম্বাই সহ প্রধান শহরগুলিতে ফ্লাইট শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে অভ্যন্তরীণ রুট বাড়ানোরও পরিকল্পনা রয়েছে। শ্রাবণ বিশ্বকর্মা বিশ্বাস করেন যে, বিমান ভ্রমণ কেবল ধনীদের জন্য নয়। তার লক্ষ্য হল সাধারণ মানুষও যাতে কম খরচে বিমান ভ্রমণ করতে পারে তা নিশ্চিত করা। টেম্পো চালানো থেকে বিমান ভ্রমণ পর্যন্ত শ্রাবণের এই যাত্রা আজ অনেক তরুণ উদ্যোক্তার জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।